চলতি বছরে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) জি২০ সদস্য দেশগুলোর আন্তর্জাতিক পণ্য বাণিজ্যে সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। অর্গানাইজেশন অব ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ সময়ে বিশ্বের প্রধান শিল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে রফতানি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে আমদানি বাণিজ্যে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। খবর আনাদোলু।
ওইসিডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে একাধিক বিষয় জি২০ দেশগুলোর বাণিজ্যকে প্রভাবিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ডলারের দরপতন ও ট্রাম্পের শুল্কনীতিজনিত অনিশ্চয়তা।
এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে ধাতুপণ্য ও স্বর্ণ। তবে আমদানি কমেছে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ। মূলত শুল্ক আশঙ্কায় দেশটিতে প্রথম প্রান্তিকে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে শিল্প কারখানায় কাঁচামালের চাহিদা কমে যায়।
জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ায় কানাডা থেকে রফতানি কমেছে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে আমদানি ছিল প্রায় অপরিবর্তিত।
এশিয়া ও ইউরোপের বেশির ভাগ দেশেই ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চ প্রযুক্তিপণ্যের কারণে চীনের রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং আমদানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। এতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে উচ্চক্ষমতার মেমোরি চিপ ও সেমিকন্ডাক্টর।
ইউরোপে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিতে রফতানি বেড়েছে যথাক্রমে ৭ দশমিক ৪, ৬ ও ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) আমদানি ও রফতানি বেড়েছে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৩ ও ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
অন্যদিকে গাড়ি ও ওষুধ কেনার কারণে যুক্তরাজ্যে আমদানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং রফতানি বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর অর্থনীতির চিত্র এ সময় দুর্বল ছিল। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার রফতানি কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ করে, যদিও আমদানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার রফতানি বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ, যার বড় অংশই এসেছে ধাতব খনিজ ও স্ক্র্যাপ ধাতু রফতানি থেকে।
শুধু পণ্য বাণিজ্য নয়, সেবা বাণিজ্যেও জি২০ সদস্যদেশগুলোয় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এ সময়ে সেবার রফতানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং আমদানি বেড়েছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ।
জি২০-এ অন্তর্ভুক্ত বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জার্মানি, জাপান, ভারত, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল ও কানাডা। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়নও সংগঠনের সদস্য।